মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

দূর্গাপুরের ঐতিহ্যঃ

             বরেন্দ্র ভূমি রাজশাহী জেলার অন্তর্গত দূর্গাপুর উপজেলা একটি সুজলা-সুফলা জনপদ। বৃষ্টিপাত অন্যান্য এলাকার মত পর্যাপ্ত না হলেও সোনাভরা মাটির কারণে দূর্গাপুর কৃষির সকল শাখায় সমৃদ্ধ এবং ঈর্ষনীয়।

 

              এ জনপদের ‍‍‍রয়েছে হাজার বছরের গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য। ‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍“‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍গোলা ভরা ধান আর গলা ভরা পান” – এ যেন দূর্গাপুর এলাকাবাসীর সাথে মন মগজে মিশে আছে। বৃহৎ রাজশাহী অঞ্চলের অন্যান্য এলাকার মত এ এলাকায় আম সারা দেশে প্রসংশনীয় দূর্গাপুরের মাঠে মাঠে জমির আইল, বাড়ীর আঙ্গিনার চারধারে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে দেখা যায় অসংখ্য মরু গাছ/ উদ্ভিদ, খেজুর। শীতকালে এই খেজুরের রস ও গুড় কেন্দ্রিক তৈরী হয় এক নতুন আমেজ। জামাই আর নাতী জামাইদের নাউর নিয়ে এসে খেজুর গুড়ের হাজার রকমের পিঠা খাওয়ানো দূর্গাপুর বাসীর জীবনধারার সাথে মিশে গেছে।

              শীতকালে পিঠার সাথে সাথে এলাকার পানানগর, জয়নগর, কানাইবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে লোকজ মেলা । জামাই আর নাতী জামাইদের মেলায় আনন্দ উপভোগের জন্য থাকে নাগর দোলা, লাঠি খেলা, বানর খেলা, সাপ খেলা, আর যাত্রা পালার জম-জমাট আয়োজন।

              উপজেলা এক কালের অহংকার হোজা নদীসহ অন্যান্য হাওর-বাওরে মাছের পরিমান ক্রমশ হ্রাস পেলেও সম্প্রতি এলাকার কৃষককুল নতুন নতুন পুকুর খনন করে ব্যাপক হারে পাঙ্গাস, সিলভার কাপ, বিগ্রেড, রুই-কাতলা সহ হাজারও জাতের মাছ, খেজুর গুড়, আমসহ কৃষি সমৃ্দ্ধির পাশাপাশি সম্প্রতিককালে মৎস্য চাষেও দূর্গাপুর উপজেলার নাম বেশ জোরে সোরেই শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০-৩৫ ট্রাক মাছ দূর্গাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রপ্তাণি করা হচ্ছে।

              গলাভরা ধানের পাশাপাশি দূর্গাপুরের পানের স্বাধ এখনো দেশ জুড়ে খ্যাতিমান। চা আর রাবার ছাড়া কী নেই দূর্গাপুরে। এ এলাকার কৃষক যেন দম ফেলানোর সময় পায় না । তাই বলে লেখা পড়ায় তাঁরা পিছিয়ে নেই। এলাকার অনেক ছেলে-মেয়ে দেশের শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে আবার কেউবা লেখা পড়ার পাঠ চুকিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। ব্যারিস্টার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রকৌশলী, বড় আমলার সংখ্যা দূর্গাপুরে নেহাত কম নয়।

              ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে ফুটবল খেলা এলাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আর ধান ক্ষেতের ফুটবল থেকে তৈরী হয়ে দূর্গাপুরের অনেক খেলোয়ার আজ বড় ক্লবে ফুটবল খেলার সুযোগ পেয়েছে এবং জাতীয় ভাবেও দূর্গাপুরের ফুটবলের ঐতিহ্য শানিত করছে।

              বাংলার গর্বের মুক্তিযুদ্ধেও দূর্গাপুর বাসী রেখেছেন অসামান্য অবদান। দূর্গাপুরের বীর সন্তানেরা এ জনপদে পাক হায়েনাদের কোন ঘাটি গড়তে দেয়নি এবং অসংখ্য সম্মুখ যুদ্ধে তাঁরা বুকের রক্ত দিয়ে দূর্গাপুর থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করেছে হানাদারদের। দূর্গাপুর বাসীর চাহিদা আবহমানকাল থেকেই অত্যন্ত সীমিত। আর তাই সুখ-শান্তি কেবল তাদের ছুয়েই যায়নি বরং পাটি পেড়ে বসেছে অধিবাসীদের অতি সাধারণ জীবনের সাথে।

 

এখানে প্রাচীনকাল থেকেই শীতঋতুকে  উপলক্ষ করে খেজুর গুড় কেন্দ্রীক পিঠা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এ উৎসবে জামাই-মেয়েসহ আত্নীয়স্বজনকে দাওয়াত করে বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি পরিবেশন করা হয়।