মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কিশমত মাড়িয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ

কিসমত মাড়িয়া মসজিদ :

রাজশাহী জেলার দূর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন আমলের এক মসজিদের নাম কিসমত মাড়িয়া মসজিদ ।ভারতিয় উপমহাদেশের মুসলিম প্রাচীন স্থাপত্য ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের মাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত এবং মসজিদটি দক্ষিণ পার্শ্ব ঘেষা গ্রামের নাম কিসমত মাড়িয়া ।তাই নিকটবর্তি দুই গ্রামের নাম অনুসারে মসজিদটির নাম করণ করা হয়েছে কিসমত-মাড়িয়া মসজিদ ।

কিসমত মাড়িয়া মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় নি ।এই মসজিদটির বর্তমান নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর, জাতীয় আর্কাইভস এবং এ্যানসইক্লোপিডিয়া থেকেও তেমন কোন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়নি ।এমন কি স্থানীয় বয়স্ক লোকজনও এর ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেনি ।তবে মসজিদটির স্থাপত্য শৈলী এবং এই অঞ্চলের অপরাপর প্রাচীন মসজিদের নির্মাণের ধরণ দেখে অনুমান করা য়ায় এটি মুঘোল আমল বা তার কিছু আগে-পরে নির্মিত হতে পারে ।

প্রাচীন মুসলিম সমাজের গৌরবজ্জল স্থাপত্য শিল্পের স্বাক্ষি,চুন আর শুড়কি দিয়ে তৈরী দৃষ্টিনন্দন কিসমত মাড়িয়া মসজিদ মূল ভূমি থেকে ২-৩ ফুট উঁচুতে নির্মিত ।মসজিদের উপরে ৩ (তিন)টি ঐতিহ্যগত গুম্বুজ আছে এবং চার কোনায় ০৪ (চার) টি কারুকাজপূর্ন খুঁটি আছে ।পূর্ব পার্শ্বে তিনটি দরজা এবং দুই পার্শ্বে ০২ টি করে মোট ০৪ (চার) টি জানালা আছে ।মসজিদের মুল ভবনটির দৈর্ঘ্য: ৩৬ ফুট, প্রস্থ: ১৪ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ১৮ ফুট ।

কিসমত মাড়িয়া মসজিদের মূল অংশের দক্ষিণ পার্শ্বে ঘেষে বাড়ীর মত আর একটি দ্বিতল স্তম্ভ আছে ।যদিও নিশ্চিত নয় তবু খুব সম্ভব মসজিদের খাদেম বা ইমামদের বিশ্রামের স্থান ছিল, এই অসাধারণ সুন্দর স্থাপনাটি ।এর দৈর্ঘ্য ১২ ফুট প্রস্থ: ০৭ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ১৮ ইঞ্চি ফুট । আশ্চর্যজনক বিষয় হলো কোন সিড়ি খুঁজে পাওয়া যায় না বা পূর্বে ছিল এমন কোন চিহৃ দেখা যায়না ।পোড়া মাটি রং-এর মসজিদটির পার্শ্বে এই ছোট স্তম্ভটি স্থাপত্য সৌন্দর্য্যের বাড়তি মাত্রা দিয়েছে ।কিসমত মাড়িয়া মসজিদে এখনো নিয়মিত স্থানীয় মুসলমানগণ জুম্মার নামাজ এবং ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করেন।

কিভাবে আসবেন :

১)রাজশাহী শহর থেকে যে কোন লোকাল বাসে চড়ে প্রায় ২৫ কি:মি: উত্তর দিকে (রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক ধরে)শিবপুর বাজারে নামতে হবে ।২৫-৩০ মিনিটের পথে বাস ভাড়া লাগবে ১৫-২০ টাকা ।(শিবপুর বাজারে দিক নির্দেশক সাইন বোর্ড আছে )

২)শিবপুর বাজার থেকে টেম্পু/ভটভটি/অটো ইত্যাদি স্থানীয় যানবাহনে চড়ে পশ্চিম দিকে প্রায় ০৫(পাঁচ) কি:মি: আসার পর পালি বাজারে নামতে হবে ।১০-১৫ মিনিটের পথে ভাড়া লাগবে ০৫ (পাঁচ) টাকা ।

৩)পালি বাজার থেকে ভ্যান বা স্থানীয় পরিবহণ নিয়ে ০২ (দুই) কি:মি: উত্তর-পশ্চিম কোনে অবস্থিত কিসমত মাড়িয়া মসজিদে যাওয়া যায় ।পাকা রাস্তায় আসা যাওয়ার ভাড়া চুক্তি করে নেওয়ায় ভাল হবে ।ভ্যান গাড়িতে আসা-যাওয়া মিলে ৪০-৫০ টাকার বেশি লাগবে না ।